আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সাধারণ এক রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হওয়া—রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পথচলা যেন এক নাটকীয় ইতিহাস।
চড়াই-উতরাই ও নানা বাধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তিনি কীভাবে আজকের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালেন, তা জানা যাবে এই প্রতিবেদনে —
সংগ্রামী শৈশব থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ
ইস্তাম্বুলের কাসিমপাসা এলাকায় এক দরিদ্র পরিবারে এরদোগানের বেড়ে ওঠা। ছাত্রজীবনে সংসার চালাতে রাস্তায় রুটি ও লেবুর শরবত বিক্রির পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবলও খেলতেন। এর মাঝেই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১৯৭০-এর দশকে তরুণ বয়সে ইসলামপন্থী রাজনীতির যুব শাখায় যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে নিজের শক্ত উপস্থিতি জাহির করেন।
১৯৯৪ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টির ব্যানারে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। মেয়র হিসেবে ইস্তাম্বুলের তীব্র পানি সংকট দূর করা, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করে নেন।
১৯৯৭ সালে এক জনসভায় একটি রাজনৈতিক ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তি করায় তুর্কি প্রশাসনের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১৯৯৮ সালে মেয়রের পদ হারানোর পাশাপাশি চার মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। তবে এই কারাভোগ তাকে দমানোর বদলে সাধারণ মানুষের চোখে এক আপসহীন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
জেল থেকে বেরিয়ে কট্টর ইসলামপন্থী ধারা থেকে সরে এসে ২০০১ সালে তুলনামূলক মধ্যপন্থী ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ গঠন করেন এরদোগান। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ২০০৩ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দশকে তিনি তুরস্কের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ান এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে আমূল পরিবর্তন আনেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি দেশটির প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন এবং সংবিধান পরিবর্তন করে সব ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন। সূত্র: ব্রিটানিকা, বিবিসি।